• ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার ০৭ জুলাই ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Fifth Part

নিবন্ধ

ফারাও এর দেশ ঘুরে... (ভ্রমণ কাহিনী) পঞ্চম পর্ব

পরের দিনের আমাদের গন্তব্য ছোট্ট শহর লাক্সর। এই শহর টি কায়রো থেকে প্রায় ৭০০ কি.মি দূরে।আমরা প্লেনে করে এখানে চলে এলাম।তাই সময় বেশ কম লাগলো। মিশরের অন্তর্দেশীয় ফ্লাইটের জন্য যে প্লেন গুলো চলে, তার symbol দেখলেও অবাক হয়ে যেতে হয়। মিশরীয়দের প্রিয় হরাস দেবতার চোখ আঁকা থাকে। এই হরাস একে দেবতা তায় আবার বাজ পাখি, তাই উচ্চতার সাথে উড়ান দিতেও এর জুড়ি মেলা ভার। এর জন্যই মিশরকে এত ভালো লাগে। এরা সূক্ষ্মতার উপর জোর দেয় বেশি। লাক্সর শহরের এয়ার পোর্ট টি খুব সুন্দর। ছোট্ট হলেও খুব পরিষ্কার আর রুচি সম্মত। এখানে এলেই বোঝা যায় , যে আমরা মিশরীয় সভ্যতার একদম কেন্দ্র স্থলে চলে এসেছি। এখানে আমরা একটি বোট এ থাকব। দু দিন এখানেই ঘুরব। তারপর নৌকা চলতে থাকবে। আর যতক্ষণ এ নৌকা দাঁড়িয়ে থাকবে ততক্ষণ নীল নদের উপরেই, তার পাড় ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকবে।লাক্সর এর পুরনো মিশরীয় নাম হল থীবস। শহরের ঝকঝকে ভাব না থাকলেও মাটির গন্ধ ভাল ভাবেই রয়েছে। আর এটিই হল লাক্সরের বিশেষত্ব। আর মিশরের সব বড় শহরের মত এখানেও, তার প্রাণ কেন্দ্রটি হল নীলনদ। নীল নদের দুই পাড়ে প্রচুর ক্ষেত, আর বড় বড় গাছ। আগে প্রতি বছর নীলনদে যে বন্যা হত, সেই বন্যার ফলে তৈরি হওয়া প্লাবন ভূমিতে চাষ করা হত, আর এখনও তাই হয়। মিশরীয় ভাষায় এই উর্বর মাটিকে বলা হয় কেমেত বা Kemet (land of black soil), আর বাকি মরুভূমি অঞ্চল কে (যা মিশরের প্রায় ৯০%) বলা হয় Land of Red soil ।লাক্সর এসে দেখা গেল, মিশরীয় সেচ ব্যবস্থার চেহারা। আমরা যে রাস্তা দিয়ে চললাম তার পাশ দিয়ে বয়ে চলছিল নীল নদের একটি ক্যানাল। রাস্তার দুই দিকে কুঁড়ে বাড়ি, যা আমাদের দেশের কথাই মনে করায়। তবে কুঁড়ে বাড়ির ছাদটি অন্যরকম। ওদের দেশে ছাদ সমান, আমাদের মত আটচালা style ওখানে নেই। চারিদিকে খেজুরের গাছ। গ্রামের ছোট বাচ্ছারা নিজেদের মধ্যে খেলাধুলা করছে। কখনও কখনও আমাদের উপস্থিতি তে অত্যন্ত বিরক্তও হচ্ছে।এখানে আমাদের থাকার জায়গা , নদীর মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বড় নৌকা বা cruise। এটিকে নৌকা না বলে ছোটখাটো একটি শহর বলা উচিত। ঘর, বারান্দা, ছাদ, খাবার ঘর, club, দোকান সব পাওয়া যায় এখানে। ছোট একটা জাহাজের মত। আমাদেরটির নাম ছিল Nile Quest । প্রত্যেকে নিজেরদের ঘরে এসে দেখলাম এলাহি ব্যবস্থা। একটা ভাল হোটেলের ঘরে যা যা থাকে, এখানেও সে সবই আছে। এখানে শুধু মাত্র একটি বোট নয়, বেশ কিছু বোট পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। একটির পর একটি পার করে নিজেদের টায় আসতে হয়।ভুল করলে কিন্তু অন্যদের বোটে চলে যাবার সমুহ সম্ভাবনা।প্রতি ঘরে একটি করে জানলাও আছে নদীর দিক করে।তবে সেটি নৌকা চলার পর উপভোগ করা যাবে । প্রথমে তো সেই জানলা খলার চেষ্টা করে প্রায় ভেঙেই দিচ্ছিলাম , পরে বুঝলাম ঘরে A.C চলায় জানলা খোলা রাখা যাবেনা । দুপুরে এলাহি খাবার খেয়ে আমরা রওনা দিলাম কারনাক ও লাক্সরের মন্দিরের উদ্দেশ্যে।কারনাক মন্দিরকারনাক ও লাক্সর এর মন্দির দুটিই মিশরের পুরনো রাজধানী থীবস এ অবস্থিত। প্রাচীন মিশরকে সাধারণ ভাবে দুটি ভাগে ভাগ করা যায় । আপার ও লোয়ার মিশর বা উত্তর ও দক্ষিণ মিশর। আগে এই দুই ভাগ আলাদা আলাদা ভাবে বিচরণ করত, তাদের সব কিছু আলাদাই ছিল। পরে ফারাও মেনেস এই দুই ভাগ কে এক করেন ও সমগ্র মিশরের একটিই রাজধানী প্রতিষ্ঠিত করেন। এই ঘটনাকে ছবিতে প্রকাশ করা হয়েছে, আপার বা উত্তর মিশরের Symbol হল পদ্ম আর লোয়ার বা দক্ষিণ মিশরের symbol হল প্যপিরাস। এই দুই এর মিলনই হল দুই মিশরের মিলন। এর ছবি দেখলে আমাদের পুরানের সমুদ্র মন্থন এর গল্প বা তার ছবি কল্পনায় ভেসে ওঠে।কারনাক মন্দিরের প্রবেশর পথ, দু দিকে সারি দিয়ে ছাগল জাতীয় পশুর মূর্তিআমরা প্রথমে গেলাম কারনাক এর মন্দিরে। কারনাক মন্দির চত্বরটি অতিকায় এবং বহু বছর ধরে বানান। এখানে বিভিন্ন রাজা বা রানীর কীর্তি আলাদা আলদা করে বোঝা যায়। এঁদের মধ্যে সব থেকে উল্লেখযোগ্য হলেন রামেসিস দ্বিতীয় বা Great Ramesis। এই মন্দিরে ঢোকার রাস্তার দু দিকে সারি সারি Ram বা বড় ছাগল জাতীয় পশুর মূর্তি আছে। আর সেই ছাগল গুলির প্রতিটির সামনে একটি করে ছোট আকারের রাজার মূর্তি আছে। যেন রাজাকে রক্ষা করছে এই পশুটি । রাজা বলে মনে হবার সম্ভাবনা কম ছিল, তবে শুধু হাত এর অবস্থান দেখে বোঝা যায় (অর্থাৎ, হাত দুটি অসিরিস এর মত করে রাখা) । এরপরের প্রশ্ন আসে, কোন রাজার এত মূর্তি গড়া হল? ঐতিহাসিকরা অনেক খুঁজে একটি মাত্র মূর্তির বুকে রাজার নামাঙ্কিত খারতুশ দেখতে পান। এই খারতুশ থেকে প্রমাণ হয় যে মূর্তি গুলি সব ই ফারাও রামেসিস দ্বিতীয়র।এই মূর্তিতেই রাজার বুকে চিহ্নিত খারতিশের মধ্যেই দ্বিতীয় রামেসিসের নাম পাওয়া যায়, খারতুশখারতুশ হল মিশরীয় একটি প্রতীকের মত। ডিম্বাকৃতি আকারের একটি ফলক মত। যার মধ্যে মিশরীয় ভাষায় কিছু বিশেষ নাম বা অর্থ কে লেখা হয়। আজকাল কার দিনে লেখার মধ্যে Highlight করার মত। এই বিশেষ জায়গা গুলতেই সাধারন ভাবে রাজার নাম লেখা থাকত। বিভিন্ন রাজার বিভিন্ন খারতুশ হত। আর কারনাকেও এই খারতুশ দেখেই রামেসিস এর নাম জানা গেছিল।এরপর আমরা একের পর এক চমক পেতে পেতে মন্দিরের ভিতরে যেতে শুরু করলাম। যত এগোতে লাগলাম, তত অবাক হওয়া বাড়তে লাগল। প্রতি কোনায় এমন সব জিনিস রয়েছে যে মনে হচ্ছিল কোন দিকে আগে যাব কোনটায় যাবনা। যাই হোক, শুরুতেই চোখে পড়ল পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট অবেলিস্ক। অবেলিস্ক হচ্ছে, পাথরের তৈরি একটি মিনার বা পিলার। সাধারণ ভাবে এক একটি অবেলিস্ক এক একটি গোটা পাথর থেকে তৈরি হয়। অর্থাৎ সব অবেলিস্ক ই এক একটি monolith। অবেলিস্ক গুলি বানাতে বানাতে যদি কোন ভাবে পাথরে ফাটল দেখা যেত বা ভুল কোন লেখা হয়ে যেত, তাহলে সেই পাথরের পিলারটি সম্পূর্ণ ভাবে বাতিল করা হত। অবেলিস্ক, রাজাদের নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শনের একটা প্রক্রিয়া মাত্র। যত ক্ষমতাশালী রাজা, তত বড় অবেলিস্ক। অবেলিস্ক সাধারন ভাবে মন্দিরেই থাকত। প্রাচীন ভারতে যেমন মন্দিরের চূড়া বা মসজিদের মিনারকে লম্বা হতে দেখা যায়, তেমনি মিশরে অবেলিস্কের লম্বা হবার রীতি ছিল।এর কারণ অবেলিস্ক কে দূর থেকে দেখে পথ চলতি মানুষ বুঝতে পারবেন যে ওইখানে একটি মন্দির আছে, ফলে রাতে থাকার জায়গা ও খাবার দুই ই পাওয়া যাবে। প্রতিটি অবেলিস্ক কোন রাজা বা রানীকে উৎসর্গ করে তৈরি করা হত। তাঁদের সবার কীর্তি অবেলিস্কে লেখা থাকত।কারনাক মন্দিরে রানী হাতসেপ্সুত ও তাঁর বাবা থুতমস দ্বিতীয়ের অবেলিস্ক রয়েছে। রানী হাতসেপ্সুতের অবেলিস্ক টি আজও এত সুন্দর ও নিখুঁত যে মনে হয়, computer এর print করা মনে হয়। তিনি নিজের বাবাকে সম্মান দেখানোর জন্য, নিজের অবেলিস্কটি একটু ছোট করে তৈরি করেন। অবেলিস্ক গুলি সব গোলাপি রঙের granite পাথরের তৈরি।তাই প্রতিটিই একটু লালচে বা গোলাপি রঙের দেখতে। এই পাথরগুলি খুব সম্ভবত লাক্সরের কাছে আসয়ান বা Aswan থেকে নিয়ে আসা।অবেলিস্ক, কারনাক মন্দিরের ভিতরকারনাক মন্দির যখন তৈরি করা হয় তখন তার ছাদ ছিল। তবে আজ আর সে বর্তমানে নেই, তবে তার কিছু আভাস আজও পাওয়া যায়। ছাদ থাকায় মন্দিরে সরাসরি সূর্যের আলো প্রবেশ করার উপায় ছিলনা, তাই মন্দির দেওয়ালে জানলা করা হত। সাধারন ভাবে মরুভুমি অঞ্চলে বাড়িতে জানলা থাকেনা, তাই কারনাক এর মন্দিরের গায়ে জানলা থাকায় আলো আসার কথাটিই মাথায় আসে। সেই জানলা আজ ও বর্তমান। আর এই জানলাগুলি ছিল অনেক উঁচুতে ফলে আশা করা যায় শুধু আলর জন্যই এগুলি বানানো।এই মন্দিরে বিশাল আকৃতির পিলার দেখতে পাওয়া যায়। তার প্রতিটির মাথায় বিভিন্ন কারুকাজ করা। এই উঁচু পিলার গুলির জন্যই এই মন্দিরকে hypostyle pillar temple বলে। তবে এটিকে শুধু মন্দির না বলে মন্দির গুচ্ছ বলা উচিত।কারনাক মন্দিরে, পিলারের উপরে রঙিন হিয়েরগ্লিফ লেখা।এই মন্দিরের দেওয়ালে, পিলারে বা ছাদে ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গায় রঙ্গিন ছবি আঁকা ছিল। আজও কিছু অংশে সেই সব ছবি কিছুটা হলেও দেখা যায়।অপূর্ব সব প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার । যা আজ থেকে প্রায় ৪০০০ হাজার বছর আগে আঁকা হলেও অমলীন। আর প্রতি পিলারে হিয়েরগ্লিফের লেখা। এ সব দেখে একটাই প্রশ্ন মাথায় আসে যে, মিশরীয়রা এত কি লিখেছিলেন? এত কি কথা থাকতো বলার জন্য।ছাদের অংশ বিশেষ এতটাই উঁচুতে যে ক্যামেরা বন্দি করা প্রায় অসম্ভব। তবুও চেষ্টা করে গেছি। আর খালি অবাক হয়েছি যে এত সুন্দর রঙের ব্যবহার ওঁরা শিখল কথা থেকে। কি করে বুঝল যে এই সব রঙ লাগালে তা থাকবে হাজার হাজার বছর। জানি না, তবে প্রশ্ন থেকেই যায় মনের মধ্যে।এই সব দেওয়াল চিত্র বা hieroglyph এর মধ্যে একটি চিত্র বার বার চোখে পরতে লাগল । একটি হাঁস জাতীয় পাখির উপর লাল রঙের গোল সূর্য । মিশরীয় ভাষায় যাকে বলে সা-রা (Sa-Ra) । যার প্রকৃত অর্থ Son of God Raa বা সূর্য দেবের পুত্র।প্রাচীন মিশরের প্রধান আরাধ্য দেবতা ছিলেন সূর্যদেব বা রা। তাই মিশরের রাজারা সবাই নিজেদের সেই দেবতার পুত্র বলে পরিচয় দিতেন। এই ধরনের অভ্যাস বোধহয় পৃথিবীর সব সভ্যতাতেই দেখা যায়। যেমন ভারতে সম্রাট অশোক নিজেকে দেবতার প্রিয় , শ্রী প্রিয়দর্শী (Devanam piya , Piyadassi) বলেছেন। বা পরবর্তী সময়ে আরও অনেক সম্রাটদেরই এই রকম পদ্ধতি গ্রহন করতে দেখা যায় । এর ঐতিহাসিক ব্যাখ্যাহল, এর দ্বারা রাজারা প্রজাদের কাছে নিজেদের গ্রহন যোগ্যতা তৈরি করতেন।এই মন্দিরের ভিতরে একটি বড় জলাশয় আছে। মরুভুমির মাঝে অত বর জলাশয় দেখে বঝা যায় যে রাজারা প্রজাদের খেয়াল রাখতেন। এই জলাশয়ের পাশে একটি বড় পাথর আছে , যার আকার খানিকটা Scurb বা মিশরীয় দেবতা খেপরীর মত। লোকমত অনুযায়ী এই খেপরী কে ছুঁয়ে যদি ৭ বার ঘোরা যায় তাহলে মনের ইচ্ছা পূর্ণ হয়, কারন খেপরী হলেন মিশরীয়দের ভাগ্য দেবতা। এর জন্যই যে কোন সমাধি ক্ষেত্রে খেপ্রির ব্যবহার চোখে পরার মত। এর সাথেই দেখা যায় বড় বড় চওড়া দেওয়াল, যাতে অপূর্ব কারুকাজ করা বা লেখা। আসলে মিশরীয়দের হিয়েরগ্লিফ লেখা গুলি ত ছবির মতই দেখতে, তাই কারুকাজ, না ছবি, না লেখা বুঝতে ভুল হয়ে যায়। আর আশ্চর্য হই এই ভেবে যে লৌহ যুগের আগে কিভাবে এত নিখুঁত কাজ করা সম্ভব।কারনাক মন্দিরের দেওয়ালএরপর আমরা পৌঁছলাম লাক্সর মন্দিরে। বর্তমান শহরের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এই মন্দির আর মনে হচ্ছে যেন প্রাচীন ও আধুনিক যুগের মধ্যে যোগাযোগ সুত্র তৈরি করছে। সামনে গিয়ে দাঁড়ালেই এক টানে নিয়ে যাবে ৪০০০ বছর আগে।চোখের সামনে ভেসে উঠবে ফারাওদের সময়কাল। আসলে মিশরে বেড়াতে আসার পুরোটাই যেন Time Machine এ চড়ে ঘুরে বেড়ানো। আর সেই যাত্রায় সাহায্য করবে পাশ দিয়ে বয়ে চলা নীল নদ।লাক্সর মন্দির সন্ধ্যের আলোয়এই মন্দিরে ঢুকতেই দেখতে পেলাম একটি রাস্তার মত অংশ সদ্য আবিষ্কৃত হয়ে পরে রয়েছে। জানলাম এই রাস্তা টিকে বলা হয় স্ফিংক্স রাস্তা বা Sphinx Avenue। এই রাস্তার উপর এখনও ঐতিহাসিকরা কাজ করছেন। রাস্তাটির দুই পাশে আজ অবধি ২৪৮ টি স্ফিংক্স এর মূর্তি পাওয়া গেছে এবং খনন কাজ এখনও চলায় আরও পাবার সম্ভবনা আছে। জানা গেল যে প্রাচীন কালে কারনাক ও লাক্সরের মন্দির দুটি এই রাস্তা দিয়ে যুক্ত ছিল। বছরে একবার উৎসব হত ১৪দিন ধরে। অনুষ্ঠান শুরু হত কারনাক এর মন্দিরে আর শেষ হত লাক্সরে। এই রাস্তা দিয়েই তখন উৎসবের মিছিল চলত। কিন্তু বর্তমানে এর অনেকটা অংশ ঢাকা পরে গেছে, ফলে তার উপর বাড়ি, শহর মানুষজনের বসতি শুরু হয়ে গেছে আর মানুষ ভুলে গেছে এই রাস্তার কথা। হয়ত হাওয়া তে কান পাতলে এখন উৎসবের শব্দ, ছেলে মেয়েদের হাসি শোনা যাবে, তবে আজ আর তাদের কথা শোনার সময় নেই কারোর। নিজেদের স্মৃতি নিয়ে একাই বসে আছে স্ফিংক্সগুলি।মন্দিরে ঢোকার আগেই একটা ছোট মন্দির দেখলাম। একজন দেবী দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু মূর্তির মাথা নেই। দেবীর পোশাক দেখে মনে হয় যে কোন গ্রীক বা রোমান দেবী। শুনলাম দেবী হলেন Aphrodite, গ্রীকদের সৌন্দর্য ও বিদ্যার দেবী। এটি দেখে বোঝা যায় যে, রোমানরা এই অঞ্চলে এসে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেছিলেন। মিশরীয় শিল্পের সাথে মিলিয়ে তাদের শিল্পকেও স্থান দেবার চেষ্টা করেছিলেন। তাতে খুব একটা সফল হতে হয়েছিলেন সে কথা বলা শক্ত।লাক্সর মন্দিরের ভিতরলাক্সরের মন্দিরেও রামেসিস দ্বিতীয়র অবদান খুব স্পষ্ট। এই মন্দিরের ভিতরে একটি মসজিদ আছে। এটি বহু পুরনো, যবে থেকে আরবরা এই অঞ্চল দখল করেন, সেই সময় থেকে এটি আছে। আজও সেখানে প্রার্থনা হয়। আমাদের সামনেই শুরু হল সন্ধ্যের আজান। তৈরি হল এক অদ্ভুত অনুভুতি। বাড়ি থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে, সুদূর মিশরে, নীল নদের ধারে ৪০০০ বছর পুরনো লাক্সর মন্দিরে বসে সূর্যাস্ত দেখা আর সাথে মিঠে আজানের সুর। একেই বোধহয় বলে সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের উদাহরণ । পরিবেশ টা হয়ে উঠল মহময়ী। সূর্যাস্তের কমলা আভা সারা আকাশ জুড়ে, আর পূব আকাশে আঁধারের ঘোরে ক্রমশ উজ্জ্বল হয়ে উঠছে বাঁকা চাঁদ। পাশের নীল নদ সন্ধ্যের কমলা কালো রঙ মেখে বয়ে চলেছে নিজের ঠিকানায়। সেই মুহূর্তে শতাব্দী প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার মন্দির, যাকে পারথেনন বলেও ভুল হয়, সেখানে আজানের সুরে আর পাখির গানে সন্ধ্যে নামছে। আর সারা পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে। এক সাথে গ্রীক-রোমান, মিশরীয়, ইসলামীয় আচারের মিশ্রণ। কি যে অদ্ভুত এই মিশ্রণ সে না দেখলে বোঝা যাবেনা।লাক্সর মন্দির আমন দেব ও তাঁর স্ত্রী দেবী মুট এর জন্য উৎসর্গিত। এই মন্দিরের মধ্যে ফারাও তুত-আঙ্খ-আমন ও তাঁর স্ত্রী আঙ্খ-সে- আমন এর মূর্তি দেখলাম। মূর্তি দুটি মার্বেল পাথরের তৈরি, তবে সমান উচ্চতার। এর থেকে বোঝা যায় যে রাজা অত্যন্ত উদার মনের। কারন মিশরে পুরুষ তান্ত্রিক সমাজ বলে রাজা ও রানীর মূর্তিতেও উচ্চতার ফারাক রাখা হত। রানীর মূর্তি হত উচ্চতায় ছোট আর সাধারণ ভাবে রাজার পাশে রানীর বসার ব্যবস্থা থাকতনা।এই মন্দিরে খুব স্পষ্ট দেবী Sashet এর মূর্তি দেখলাম। এই দেবী মিশরীয়দের বিদ্যা আর কারিগরি বিদ্যার দেবী। খানিকটা ভারতীয় দেবী সরস্বতীর মত।এখানে দেখলাম রামেসিস দ্বিতীয়র মূর্তির পিছনে তাঁর অবেলিস্ক টি, মূর্তিটিকে যেন সহায়তা করছে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য। মন্দিরের ভিতরের অংশে রঙ দিয়ে আঁকা ছবি দেখা গেল। কিছু ছবিতে, ইউরোপীয় ধাঁচ লক্ষ্য করা যায়। বোঝা যায় যে রোমানরা এখানে এসে এদের ধর্ম কে মুছে ফেলতে চেয়ে খ্রিষ্টান ধর্মের প্রচার করতে চেয়েছেন। তবে কত টা সফল হয়েছে সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। শিল্প ও ধর্মের ক্ষেত্রে এই অদ্ভুত আচরণ সারা পৃথিবীতেই বিভিন্ন সময়ে দেখা যায়। মানুষ হয়েও এত বর্বর আচরন ভাবা যায়না। বা হয়ত বলা উচিত মানুষ বলেই এতটা অনাচার করতে পেরেছে ও সহ্য করতেও পেরেছে। তবে আজ আমরা একে যেভাবে দেখছি, সেটি একটি অন্য এক রূপ প্রকাশ করছে। মিশরীয় দেবতার মন্দিরে একদিকে মসজিদে শোনা যায় আজানের সুর, অন্যদিকে যীশু উঁকি দেন দেওয়ালের ফাঁকে। দেবতায়- ঈশ্বরে কোন ভেদ নেই, ভেদাভেদ শুধু মানুষের মনে, আর মনের মধ্যে। তাই বোধহয় দেবতারাও আজ মুখ ফিরিয়ে নিতে চাইছেন আমাদের থেকে।কিছু সুন্দর মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে ফিরে এলাম আমাদের নৌকাতে। মনের মধ্যে শুধু জ্বলতে থাকল লাক্সার মন্দিরের ভিতরের পরিবেশ। মনে হতে লাগল, যদি হতে পারতাম ওদের দলের একজন, থেকে যেতাম এই শহরেই, জীবনের বাকি অংশটা কাটিয়ে যেতাম।

ডিসেম্বর ০৩, ২০২২

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

পুলিশি বাধার অভিযোগ তুলে বারুইপুরে নিহত কিশোরীর পরিবারের পাশে কংগ্রেস, বিজেপিকে তোপ শুভঙ্করের

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকার ধর্ষণ-খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার-সহ দলের এক প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন কংগ্রেস নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী, ডাঃ মায়া ঘোষ, তপন আগরওয়াল, আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, শামিম আখতার, সুজিত পাটোয়ারী, তপন মণ্ডল, প্রতাপ মণ্ডল, অর্ঘ্য গণ-সহ অন্যান্য নেতারা।পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার আগে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে কংগ্রেস নেতৃত্ব। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।ঘটনার পর বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার কথা বলেছিল। কিন্তু আজ ডাবল ইঞ্জিন সরকারের বাস্তব চিত্র সামনে এসেছে। হাথরস, উন্নাওয়ের মতো ঘটনার তালিকায় এখন এই এলাকার নামও জুড়ে গেল। কেন এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির যোগসূত্রের অভিযোগ সামনে আসছে, তার উত্তর দিতে হবে।বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুভঙ্কর আরও বলেন, কোনও অপরাধ ঘটতেই পারে, কিন্তু প্রশ্ন হল কেন ঘটল। অতীতেও বাংলায় এমন নৃশংস ঘটনা ঘটেছে, আর সেই কারণেই সরকার পরিবর্তনের দাবি উঠেছিল। বিজেপি তখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তাদের সরকার এলে মহিলাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর হবে। কিন্তু আজ সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কোথায়?কংগ্রেসের দাবি, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিও জানায় দল।

জুলাই ০৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মোহনবাগানের নতুন কোচের প্রথম হুঁশিয়ারি! ডার্বি নিয়ে এমন বার্তা দিতেই উত্তেজনায় ফুটবল মহল

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মোহনবাগানের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিলেন প্যানাজিওটিস ডিলম্পেরিস। এক বছরের চুক্তিতে সবুজ-মেরুন শিবিরে যোগ দিয়েছেন তিনি। গত দুই মরশুমে তিনি পাঞ্জাবের দায়িত্ব সামলেছেন। স্প্যানিশ কোচ সের্জিও লোবেরাকে বিদায় জানিয়ে নতুন কোচকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে মোহনবাগান। দায়িত্ব নিয়েই নতুন কোচ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁর লক্ষ্য শুধু ভালো ফুটবল নয়, জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।ফুটবল মহলে প্যানোস নামেই বেশি পরিচিত এই গ্রিক কোচ। আক্রমণাত্মক এবং গতিময় ফুটবল খেলাতে তিনি বিশ্বাসী। দীর্ঘদিন গ্রিসের বিভিন্ন প্রথম সারির ক্লাবে কাজ করার পর ভারতে এসে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বিদেশি ও তরুণ ফুটবলারদের সমন্বয়ে শক্তিশালী দল গড়ে তুলতে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।দায়িত্ব নেওয়ার পর প্যানাজিওটিস বলেন, আগামী মরশুমের আগে দলের মধ্যে শক্তিশালী বোঝাপড়া তৈরি করাই তাঁর প্রথম কাজ। শৃঙ্খলা, কঠোর পরিশ্রম এবং লড়াই করার মানসিকতা দিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তুলতে চান তিনি। মোহনবাগানের সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং সমর্থকদের আবেগ সম্পর্কে তিনি আগে থেকেই জানতেন। সেই ঐতিহ্যের অংশ হওয়ার সুযোগ পাওয়াকে তিনি নিজের কাছে বড় সম্মান বলেও উল্লেখ করেছেন।নতুন কোচের কথায়, বড় ক্লাবের দায়িত্ব মানেই বড় প্রত্যাশা। মোহনবাগানের সমর্থকদের ভালোবাসা এবং আবেগই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই প্রতিটি ম্যাচ জেতার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চান তিনি। কঠোর পরিশ্রম, পেশাদার মানসিকতা এবং ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সমর্থকদের আস্থা অর্জনই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি ক্লাবের ট্রফি জয়ের ধারাও বজায় রাখতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি।দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর সামনে বড় পরীক্ষা। আগামী পঁচিশ জুলাই ডুরান্ড প্রতিযোগিতায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে মোহনবাগান। কলকাতা ডার্বি নিয়ে প্যানাজিওটিস বলেন, বিশ্বের অন্যতম ঐতিহাসিক ফুটবল লড়াই এই ম্যাচ। এর গুরুত্ব তিনি ভালোভাবেই জানেন। তবে শুধু আবেগ নয়, সঠিক প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়েই ডার্বিতে নামবে তাঁর দল। প্রতিপক্ষকে সম্মান জানিয়েও সাহসী ফুটবল খেলে জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে মোহনবাগান।নতুন কোচের এই আত্মবিশ্বাসী বার্তা প্রকাশ্যে আসতেই সবুজ-মেরুন সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস আরও বেড়েছে। এখন সকলের নজর আসন্ন ডার্বি এবং নতুন কোচের হাত ধরে মোহনবাগানের নতুন অধ্যায়ের দিকে।

জুলাই ০৬, ২০২৬
কলকাতা

কলকাতায় অমিত শাহ, ভার্চুয়ালি মোদী! শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কলকাতার অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মিলন মেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। সেখান থেকেই দেশের উদ্দেশে বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।বক্তব্যের শুরুতেই নরেন্দ্র মোদী বলেন, আজ গোটা দেশ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে। তাঁর আদর্শ, চিন্তাধারা এবং দেশগঠনের ভাবনা আজও কোটি মানুষের কাছে প্রেরণার উৎস। নতুন সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ তিনি দেখিয়ে গিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।কলকাতার এই অনুষ্ঠান থেকে মোদী বলেন, রাষ্ট্রবাদী সরকার থাকলে দেশের মহান নেতাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় এবং তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করেই সরকার পরিচালিত হয়। তাঁর দাবি, গত দুই বছর ধরে দেশজুড়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর এই উদ্যাপন আরও বড় আকারে হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন শুধু একজন নেতার জীবন নয়, এটি একটি জনআন্দোলনের অনুপ্রেরণা। তাঁর চিন্তাধারা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন দিশা দেখিয়েছিল। যে সময় জনসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন চারদিকে কংগ্রেসের প্রবল প্রভাব ছিল। সেই কঠিন পরিস্থিতিতেও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নিজের আদর্শে অটল থেকে নতুন রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। প্রতিকূল পরিবেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তাঁর এই উদ্যোগ আজও বহু মানুষের কাছে অনুকরণীয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ, বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রবাদ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে জোর চর্চা চলছে।

জুলাই ০৬, ২০২৬
কলকাতা

মোমবাতি হাতে পথে মমতা, ব্যারিকেড ভেঙে এগোল মিছিল! বারুইপুর কাণ্ডে তপ্ত কালীঘাট

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার কালীঘাটে মোমবাতি হাতে পথে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের বাড়ির সামনে থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বাড়ির গলির মুখে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ব্যারিকেড সরিয়ে মিছিল এগিয়ে যায়।মিছিলে মূল স্লোগান ছিল, বারুইপুরের বিচার চাই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এদিন দেখা যায় দলের একাধিক মহিলা নেত্রীকে। দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, অপরূপা পোদ্দার-সহ তৃণমূলের বহু নেতা-কর্মী মোমবাতি ও প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিলে অংশ নেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কালীঘাট এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নিজের বাড়ির সামনেই প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।রবিবার বারুইপুরে এক নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।ঘটনার পর নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে রবিবার রাতেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার দুপুরে তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল বারুইপুরে গিয়ে মৃত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে। পরে তারা কালীঘাটে ফিরে গোটা ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানায়।এরপরই কালীঘাটে প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন তৃণমূল নেত্রী। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন ইস্যুতে একাধিকবার পথে নেমেছেন তিনি। এবার বারুইপুরের নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনার বিচার দাবি করে সরাসরি প্রতিবাদে শামিল হওয়ায় বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

জুলাই ০৬, ২০২৬
রাজ্য

নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার, তদন্তে বিস্ফোরক মোড়! গণধর্ষণের অভিযোগে কাঁপল বারুইপুর

বারুইপুরে নাবালিকার মৃত্যু মামলায় তদন্তে বড় মোড় এল। খুনের মামলার সঙ্গে এবার ধর্ষণ ও গণধর্ষণের অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, নাবালিকাকে গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। সোমবার ধৃত তিন অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হলে তাঁদের চৌদ্দ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। তদন্তে একাধিক গুরুতর ধারা যোগ হওয়ায় মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় নাবালিকার দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিন অভিযুক্তকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।আদালতে সরকারি আইনজীবী জানান, এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলা। তদন্তের স্বার্থে এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ করা বাকি রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং ফরেন্সিক বিশ্লেষণও সম্পূর্ণ হয়নি। প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও আদালতে তুলে ধরা হয়। সেই কারণেই ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হয়।তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রথমে নাবালিকার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল। তদন্তে নেমে প্রথম অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার পর তার জেরাতেই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুলিশ এই মামলায় ধর্ষণ, গণধর্ষণ, খুন, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, নাবালিকার বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ সংক্রান্ত বিশেষ আইন এবং নাবালিকা অপহরণের একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও যৌন নির্যাতনের ইঙ্গিত মিলেছে বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে।সোমবার আদালতে অভিযুক্তদের পক্ষে কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। শুনানি শেষে আদালত তিন অভিযুক্তকে চৌদ্দ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনও চলছে।

জুলাই ০৬, ২০২৬
কলকাতা

শেষমেশ নির্বাচন কমিশনে বড় চাল! ‘আসল তৃণমূল’ প্রমাণে বিস্ফোরক দাবি, ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ

আসল তৃণমূল কে, সেই প্রশ্নের জবাব এবার নির্বাচন কমিশনের সামনে। সোমবার নির্ধারিত সময়ে কালীঘাট শিবিরের পক্ষ থেকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়া হয়েছে। সেই নথিতে নিজেদেরই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করেছে দল। পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের নেতৃত্বাধীন শিবিরের দাবি আইনসম্মত নয় বলেও একাধিক যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।কালীঘাট শিবিরের দাবি, দলের সংবিধান অনুযায়ী প্রথমে প্রতি তিন বছর এবং পরে চার বছর অন্তর সাংগঠনিক নির্বাচন হওয়ার নিয়ম থাকলেও, দুই হাজার ছয় সালে সংবিধান সংশোধন করে সেই মেয়াদ পাঁচ বছর করা হয়। সেই নিয়ম মেনেই দুই হাজার বাইশ সালে শেষ সাংগঠনিক নির্বাচন হয়েছে। ফলে বর্তমান কমিটির মেয়াদ দুই হাজার সাতাশ সাল পর্যন্ত বৈধ। এই অবস্থায় তিন বছরের মেয়াদের দাবি সম্পূর্ণ ভুল এবং আইনসম্মত নয় বলেই নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে।নথিতে আরও বলা হয়েছে, যদি ধরা হয় দুই হাজার পঁচিশ সালেই দলের সাংগঠনিক মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল, তাহলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ যাঁরা পরে জোড়াফুল প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, তাঁদের প্রার্থীপদও প্রশ্নের মুখে পড়বে। সে ক্ষেত্রে তাঁদের নির্বাচিত হওয়াও আইনগতভাবে বৈধ হবে না। সেই পরিস্থিতিতে তাঁদের পদত্যাগ করা উচিত বলেও দাবি করা হয়েছে।কালীঘাট শিবির আরও জানিয়েছে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা নিজেদের একটি ব্লক হিসেবে স্পিকারের কাছে পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু দলের সংবিধান অনুযায়ী কোনও ব্লকের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকার অধিকার নেই। প্রথমে ব্লক, তারপর জেলা, এরপর রাজ্য স্তরের সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর জাতীয় কর্মসমিতি গঠিত হয়। ফলে একটি ব্লকের পক্ষে জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকা সংবিধানবিরোধী বলেই দাবি করা হয়েছে।দলের সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকার আগে অন্তত দুটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। সেই বিজ্ঞপ্তি কোথায় প্রকাশ করা হয়েছে, তার কোনও তথ্য ঋতব্রত শিবির দেয়নি বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তিতে বলা হয়েছে, দলের সমস্ত সাংসদ ও বিধায়কেরা পদাধিকারবলে জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য। সেই হিসেবে বর্তমান সমস্ত সাংসদ ও বিধায়কদের মতামত ছাড়া কোনও জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকা সম্ভব নয়। অথচ সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেই অভিযোগ করা হয়েছে।কালীঘাট শিবিরের আরও দাবি, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা বারবার দলের সংবিধানের কথা উল্লেখ করছেন। অর্থাৎ তাঁরাও কার্যত অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সংবিধান এবং দলের অস্তিত্ব স্বীকার করছেন। তাই নিজেদের পৃথক দাবি আইনগতভাবে টিকবে না বলেই নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।এই নথি জমা পড়ার পর আসল তৃণমূল এবং জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

জুলাই ০৬, ২০২৬
কলকাতা

হঠাৎ প্রসেনজিতের বাড়িতে অমিত শাহ! বন্ধ দরজার বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা, কী কথা হল?

কলকাতা সফরে এসে আচমকাই অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছে গেলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সরকারি কর্মসূচির তালিকায় এই সাক্ষাতের কোনও উল্লেখ ছিল না। তাই এই হঠাৎ সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এটিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলেই জানানো হয়েছে, তবুও এর নেপথ্যে অন্য কোনও বার্তা রয়েছে কি না, তা নিয়েই বাড়ছে কৌতূহল।সোমবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে একাধিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলকাতায় আসেন অমিত শাহ। বিমানবন্দরে নামার পর তিনি প্রথমে ইকো পার্কে গিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একশো পঁচিশ ফুট উচ্চতার মূর্তির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখান থেকে তাঁর মিলন মেলায় অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা থাকলেও আচমকাই তিনি বালিগঞ্জে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছে যান।জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রায় পনেরো মিনিট অভিনেতার বাড়িতে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং নিশীথ প্রামাণিক। সূত্রের খবর, সেখানে চা-আড্ডার মধ্যেই সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। তবে এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ নিয়েই শুরু হয়েছে নানা রাজনৈতিক জল্পনা।এর আগেও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির শীর্ষ নেতাদের একাধিকবার দেখা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার অভিনেতার বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মান পাওয়ার জন্য শুভেচ্ছা জানান। সেই সময় তাঁর হাতে রামলালার একটি মূর্তি তুলে দেওয়া হয়েছিল। তখন সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, সেই সাক্ষাৎ সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।এর কিছুদিন আগে নিজের নতুন ছবি দেখার আমন্ত্রণ জানিয়ে রাজ্য ভারতীয় জনতা পার্টির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বাড়িতেও গিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ। এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তাঁর বাড়িতে যাওয়ায় সেই জল্পনা আরও বেড়েছে।যদিও এই সাক্ষাৎ নিয়ে কোনও পক্ষই রাজনৈতিক তাৎপর্যের কথা স্বীকার করেনি, তবুও সময় এবং পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ফলে অমিত শাহ ও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের এই সাক্ষাৎ এখন রাজনৈতিক মহল থেকে বিনোদন জগত সর্বত্রই আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

জুলাই ০৬, ২০২৬
রাজ্য

বারুইপুর কাণ্ডে সামনে এল নতুন সিসিটিভি ফুটেজ! মৃত্যুর আগে কার সঙ্গে হাঁটছিল নাবালিকা? বাড়ছে রহস্য

বারুইপুরে নাবালিকার মৃত্যু মামলায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যেই সামনে এসেছে একটি সিসিটিভি ফুটেজ, যা ঘিরে নতুন করে জোরালো হয়েছে তদন্ত। তদন্তকারীরা ফুটেজটি খতিয়ে দেখছেন এবং ঘটনার সঙ্গে এর যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, নাবালিকার পরনে ছিল নীল রঙের সালোয়ার-কামিজ। তাঁর সঙ্গে হাঁটতে দেখা যায় এক যুবককে, যার পরনে ছিল লাল রঙের জামা এবং মাথায় নীল রঙের টুপি। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ওই যুবক গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের একজন হতে পারেন। তবে ফুটেজে কোথায় যাওয়া হচ্ছিল বা এরপর কী ঘটেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সেই বিষয়টি জানতে তদন্ত চালানো হচ্ছে।নাবালিকার মা ঘটনার কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁর মেয়ে যে যন্ত্রণা সহ্য করে প্রাণ হারিয়েছে, অভিযুক্তদেরও আইনের মাধ্যমে সেই অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, অতীতে বহু এমন ঘটনা ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রেই বিচার পাওয়া যায়নি। এবার তিনি দ্রুত এবং নিরপেক্ষ বিচার চান।এলাকার এক প্রতিবেশী জানান, সিসিটিভি ফুটেজে যুবকের মাথায় টুপি থাকায় মুখ স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে না। তাঁর হাতে একটি খাবারের প্যাকেটও ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। তদন্তকারীরা ফুটেজের মান উন্নত করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।সোমবার ধৃত তিন অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হয়। আদালত তাঁদের চৌদ্দ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তে ইতিমধ্যেই খুনের পাশাপাশি ধর্ষণ ও গণধর্ষণের অভিযোগ যুক্ত হয়েছে। এছাড়া একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।সরকারি আইনজীবী আদালতে জানান, এই মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তদন্তের স্বার্থে এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা বাকি রয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সেই কারণেই অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে প্রকৃত সত্য সামনে আনার চেষ্টা চলছে।

জুলাই ০৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal